পর্ব ১শ্রাবণের শেষ রাত। আকাশজুড়ে কালো মেঘের আস্তরণ। একের পর এক বজ্রপাত যেন পুরো যশোর রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। কপোতাক্ষ নদীর জল উত্তাল হয়ে আছড়ে পড়ছে ঘাটে বাঁধা নৌকোগুলোর গায়ে। বাতাসে কাদা, বৃষ্টি আর ভয় মিশে আছে।দূরে নদীর বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল কয়েকটি অচেনা যুদ্ধজাহাজ। জাহাজগুলোর মাথায় আগুন জ্বলছে। কালো অন্ধকারের মধ্যে সেই আগুনগুলোকে যেন নরকের চোখের মতো লাগছিল।ঘাটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ জেলে আতঙ্কে ফিসফিস করে বলল—“মোগলদের জাহাজ…”পাশে থাকা কিশোর ছেলেটা ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল—“ওরা কি আবার লুট করতে এসেছে?”বৃদ্ধ লোকটা নদীর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
প্রতাপাদিত্য - 1
পর্ব ১শ্রাবণের শেষ রাত। আকাশজুড়ে কালো মেঘের আস্তরণ। একের পর এক বজ্রপাত যেন পুরো যশোর রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। কপোতাক্ষ জল উত্তাল হয়ে আছড়ে পড়ছে ঘাটে বাঁধা নৌকোগুলোর গায়ে। বাতাসে কাদা, বৃষ্টি আর ভয় মিশে আছে।দূরে নদীর বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল কয়েকটি অচেনা যুদ্ধজাহাজ। জাহাজগুলোর মাথায় আগুন জ্বলছে। কালো অন্ধকারের মধ্যে সেই আগুনগুলোকে যেন নরকের চোখের মতো লাগছিল।ঘাটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ জেলে আতঙ্কে ফিসফিস করে বলল—“মোগলদের জাহাজ…”পাশে থাকা কিশোর ছেলেটা ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল—“ওরা কি আবার লুট করতে এসেছে?”বৃদ্ধ লোকটা নদীর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল—“ওরা যেখানে যায়… সেখানকার নদীর জলও ...Read More
প্রতাপাদিত্য - 2
নদীর উপর তখন আগুন আর ধোঁয়ার রাজত্ব।চারদিকে ছড়িয়ে আছে ভাঙা কাঠ, জ্বলন্ত পাল আর মানুষের আর্তচিৎকার। নদীর কালো জলের আগুনের লাল প্রতিফলন দেখে মনে হচ্ছিল—কপোতাক্ষ যেন সত্যিই রক্তে রঙিন হয়ে উঠেছে।প্রতাপ স্থির চোখে সামনে তাকিয়ে ছিল। দূরে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে বিশাল সেই মগ যুদ্ধজাহাজ।অন্য সব জাহাজের চেয়ে অনেক বড়। লোহার মোটা আবরণে ঢাকা।সামনের অংশে বসানো বিশাল কামান। আর জাহাজের মাথায় দাঁড়িয়ে সেই ভয়ংকর সেনাপতি। তার মুখের একপাশ কাটা। ডান চোখের নিচে গভীর দাগ। হাতে বিশাল তলোয়ার।সে আবার গর্জে উঠল—“আজ বাংলার নদীতে প্রতাপের শেষ দিন!”মগ সৈন্যরা উল্লাসে চিৎকার করে উঠল। বাংলার সৈন্যদের মুখে আবার ভয় ফিরে আসতে লাগল।কারণ তারা ...Read More
প্রতাপাদিত্য - 3
রাতের অন্ধকারে কপোতাক্ষ নদী যেন আগুনের সর্পে ভরে উঠল। দূরে একটার পর একটা আগুনের বিন্দু ধীরে ধীরে বড় হতে করেছে। নদীর কালো জলের উপর সেই আলো কাঁপছে। আর তার সঙ্গে ভেসে আসছে গভীর যুদ্ধঢাকের শব্দ।ধুম…ধুম…ধুম…প্রতিটি শব্দ যেন বুকের ভেতর আঘাত করছিল।উত্তরের পাহারাদার টাওয়ারে দাঁড়িয়ে প্রতাপ স্থির চোখে তাকিয়ে রইল নদীর দিকে।তার পাশে বৃদ্ধ নৌসেনাপতি ফিসফিস করে বললেন—“ওরা এসে গেছে…”প্রতাপ ধীরে ধীরে বলল—“না। ওরা এখানে শুধু শুধু আসেনি।”তার চোখে আগুনের প্রতিফলন জ্বলল।“ওরা ভয় দেখাতে এসেছে।”নদীর বুকের উপর এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বিশাল সব যুদ্ধজাহাজ। সামনের অংশে আগুনের মশাল। দুই পাশে কামান। আর প্রতিটি জাহাজের মাথায় উড়ছে মোগল পতাকা। সবচেয়ে বড় ...Read More
প্রতাপাদিত্য - 4
বিক্রমাদিত্যের কক্ষের ভেতরে তখন এমন এক নীরবতা নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের শব্দকেও হার মানায়।বাইরে আগুন জ্বলছে। দূরে কামানের গর্জন যাচ্ছে।প্রাসাদের করিডরে সৈন্যরা ছুটে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই ঘরের ভেতরে—সবকিছু যেন থেমে গেছে। প্রতাপ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে সেই রক্তমাখা কাগজ।কাঁপা হাতে লেখা মাত্র তিনটি শব্দ—"বিশ্বাস করো না..."আর তার নিচে—"ব..."শুধু একটি অক্ষর। কিন্তু সেই একটি অক্ষর যেন হাজারটা তলোয়ার হয়ে প্রতাপের বুকে আঘাত করল।তার মনে ভেসে উঠল—বসন্ত রায়। কাকা। শৈশবের শিক্ষক। যুদ্ধবিদ্যার প্রথম গুরু। যে মানুষ তাকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছেন।প্রতাপের মুঠো শক্ত হয়ে উঠল। না। এটা কি সত্যি হতে পারে? নাকি কেউ ইচ্ছে করে এই সন্দেহের বীজ ...Read More